শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

পদ্মায় যাত্রীবাহী বাস ডুবি: নিখোঁজ অর্ধশতাধিক, উদ্ধার অভিযানে ঢাকা-ফরিদপুরের ডুবুরি দল


রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল প্রায় সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সোজা পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার জানান, বাসটি নদীর গভীরে তলিয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে বিশেষ প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল তলব করা হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেবেন।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই মাত্র ৭ থেকে ৮ জন যাত্রী সাঁতরে নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে এখনো অন্তত ৩০ জনের বেশি যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নদী থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া আব্দুল আজিজ নামের এক যাত্রী জানান, “হঠাৎ করেই বাসটি নদীতে পড়ে যায়। আমি কোনোমতে জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে তীরে উঠেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী, ছয় বছরের সন্তান এবং শাশুড়ি এখনো বাসের ভেতরেই রয়ে গেছে।”
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পন্টুন পিচ্ছিল থাকা অথবা ফেরিতে ওঠার সময় বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে যানবাহন পারাপার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box