আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে একটি চীনা তেলবাহী জাহাজ। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন–এর কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর প্রতিবেদনে এলএসইজি’র শিপিং তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে, ‘রিচ স্টারি’ নামের ট্যাঙ্কারটি চীনা মালিকানাধীন এবং এতে চীনা ক্রুরা কর্মরত। তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি পূর্বে ‘ফুল স্টার’ নামে পরিচিত ছিল।ব্লুমবার্গ–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে সহায়তার অভিযোগে জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সর্বশেষ যাত্রায় জাহাজটি ইরান–এর কোনো বন্দরে নোঙর করেছিল কিনা বা এতে কী ধরনের পণ্য ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।জানা গেছে, পারস্য উপসাগর ছাড়ার উদ্দেশ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দুইবার চেষ্টা চালায় জাহাজটি। সোমবার নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় মার্কিন অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবার কেশম দ্বীপ–সংলগ্ন সংকীর্ণ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে আবার যাত্রা শুরু করে জাহাজটি এবং বার্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে জানায় যে এর মালিকানা ও ক্রুরা চীনা নাগরিক।বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই বৈশ্বিক শিপিং খাত ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। অবরোধের নীতিমালা পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান আপাতত তাদের জাহাজ চলাচল সীমিত বা স্থগিত রেখেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি এতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।





মন্তব্য করুন