রাজধানীর মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও পরে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে রাব্বি নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।পুলিশের তথ্যমতে, গত দুই মাসে অন্তত ১৩ জন নারীকে একই কৌশলে ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত রাব্বি। তার প্রতারণার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত কৌশলী ও পরিকল্পিত।উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, রাব্বি প্রথমে অনলাইনে বা বিভিন্ন মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে তুলত। এরপর তাদের বলত—তোমার প্রেমিক তোমার জন্য কিছু উপহার পাঠিয়েছে। আমার ফুপু বা চাচার বাসার কাছে এলে আমি উপহারটি তোমাকে দিয়ে দেব।ভুক্তভোগীরা যখন নির্ধারিত স্থানে উপহার নিতে যেতেন, তখন রাব্বি ফোন করে নিজেকে অসুস্থ বলে দাবি করত। সে জানাত, সে আসতে পারছে না; তার ফুপাতো বা চাচাতো ভাই উপহার নিয়ে সেখানে আসবে। বাস্তবে সেই ‘ভাই’ সেজে নিজেই ভুক্তভোগীদের সামনে হাজির হতো।পুলিশ জানায়, সাক্ষাতের স্থান হিসেবে রাব্বি সাধারণত মেট্রোরেল স্টেশন বা সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের এলাকা বেছে নিত। সেখান থেকে কখনো পথ দেখানোর কথা বলে, আবার কখনো কৌশলে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ভুক্তভোগীদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায় তার দুটি গোপন আস্তানায় নিয়ে যেত। সেখানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করত সে।ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিত রাব্বি। ফোন বিক্রির আগে সে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিত এবং সেই হিসাব ব্যবহার করে নতুন নারীদের টার্গেট করত।পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ৯ মার্চ এক ভুক্তভোগীর সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১০ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা গেলেও জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি ১৩ জন নারীকে একই কৌশলে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই কদমতলী থানায় একটি মামলা রয়েছে। এমনকি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের স্ত্রীকেও বিয়ে করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। তদন্তে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছে।উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তিনটি নিয়মিত মামলা ও কয়েকটি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী এখনো সামনে আসছেন না। তাই ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। এছাড়া তার সঙ্গে কোনো সহযোগী বা বড় কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





মন্তব্য করুন