ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন বাছাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনীয় তথ্য-নথি অসম্পূর্ণ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত বাছাই কার্যক্রমে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিরোধীদলীয় ১১ দলীয় ঐক্যজোট থেকে জমা দেওয়া ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এনসিপির নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মনোনয়নপত্রে তিনি সরকারি পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন উত্তোলনের তথ্য উল্লেখ করলেও কোথায় এবং কতদিন চাকরি করেছেন—সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জমা দেননি। এ কারণে তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি জমা দিলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গেছে, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক-এ অফিসার (জেনারেল) পদে নিয়োগ পান। ওই বছরের ১১ নভেম্বর তিনি কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেন। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে বদলি করা হয়। সেখানে কর্মরত অবস্থাতেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ব্যাংকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন।তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হলে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এ কারণে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এদিকে বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১৩টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের আটজন, এনসিপির দুজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন, জাগপার একজন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া এক শিশুর মাকে প্রার্থী করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, কোনো জোট নির্ধারিত আসনের তুলনায় কম প্রার্থী দিলে সংশ্লিষ্ট আসনটি উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন তফসিল ঘোষণা করে ওই আসনে নির্বাচন হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রার্থী নির্বাচিত হবেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সে ক্ষেত্রে বিএনপি জোট অতিরিক্ত একটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বৈধ হবে কি না—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।





মন্তব্য করুন