বিশেষ প্রতিনিধি মুরাদ হোসেন।
চাঁদপুর জেলাজুড়ে লাগামহীন ও অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পুরো জেলার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা আগাম ঘোষণা ছাড়াই আধা ঘণ্টা পরপর কিংবা কিছুক্ষণ পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো দিনে, কখনো গভীর রাতে—এভাবে ২৪ ঘণ্টাজুড়েই বিদ্যুতের বারবার আসা-যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছে। কখনো একবার, কখনো দুইবার নয়—সারাদিনজুড়েই কয়েক দফা লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে ঘরের স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যন্ত সবকিছুতেই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিঘ্ন।প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কষ্টকর। অনেকেই অভিযোগ করছেন, রাতের বেলায় হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে ঠিকমতো ঘুমানোও সম্ভব হচ্ছে না। এতে পরিবারগুলো চরম অস্বস্তির মধ্যে দিন পার করছে।শুধু ঘরের ভোগান্তিই নয়, লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। জেলার অনেক দোকানপাট, ছোট শিল্পকারখানা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।এছাড়া বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক বাসিন্দা।চাঁদপুর জেলার মানুষের দাবি, যদি প্রতিনিয়ত এভাবে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং চলতেই থাকে, তাহলে অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হোক। সারাদিনে একবার বা দুইবার নির্দিষ্ট সময় ধরে লোডশেডিং হলে মানুষ আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করে করতে পারবে।ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, অনিয়মিত ও অনির্ধারিত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন থাকবে না—এ নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। তাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চাঁদপুর জেলার মানুষ।





মন্তব্য করুন