ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন বছরের কন্যাসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটলেও পাঁচ দিন পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ মা ও আহত শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী বাজার এলাকায় রাতের বেলায় এক নারীকে শিশুসন্তানসহ কাঁদতে দেখে স্থানীয় ইজিবাইক চালক সুজন মিয়া তাকে উদ্ধার করেন।ভুক্তভোগীর বরাতে তিনি জানান, চারজন ব্যক্তি তাকে পাশের একটি বিলের ধারে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে আরও দুইজন তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুনরায় নির্যাতন চালায়।এ সময় মায়ের কোলে থাকা তিন বছরের শিশুটি চিৎকার করলে তাকে আঘাত করা হয়। এতে শিশুটির বাম চোখের নিচে জখম হয় বলে জানা গেছে।পরে সুজন মিয়া ওই নারীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। স্থানীয় মতি মিয়ার স্ত্রী হবিনা বেগম তাকে খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।এদিকে কান্দিউড়া গ্রামের এক যুবক গভীর রাতে এসে ওই নারীকে নিজের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে ভুক্তভোগী তাকে চিনতে অস্বীকার করেন। পরে সে সেখান থেকে চলে যায়।অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আশ্রয়দাতাদের হুমকি দেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি রোববার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ভালুকার উদ্দেশ্যে শিশুসন্তানসহ রওনা দেন। পরে পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানাতে পারছেন না। তার পরিচয় শনাক্তে পিবিআই কাজ করছে। তাকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





মন্তব্য করুন