কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সম্পত্তির লোভে আপন বোনকে হত্যার পর লাশ গোপন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের উত্তর বিজয়রাম তবকপুর গ্রামের বাসিন্দা একরামুল হক (পিতা: মৃত ইসমাইল কেরানী) দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি এককভাবে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার মৃত বড় ভাই মন্টু মিয়ার একমাত্র কন্যা মুন্নি বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য বোনদেরও প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে আসছিলেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, একরামুল হকের ছোট বোন রাহেনা উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিজ নামে কিছু জমির মালিক ছিলেন। সেই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাকে কৌশলে স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজ বাড়িতে আনা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন তাকে মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পরিকল্পিতভাবে রাহেনাকে হত্যা করা হয় এবং তার মরদেহ একটি কুঁড়ে ঘরে গোপন রাখা হয়। কয়েকদিন পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এক ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ দেখতে পান।ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত একরামুল হক স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় ঘটনাটিকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মরদেহে পচন ধরায় গোসল করানো সম্ভব হয়নি। পরে সাহেরা ও উম্মে কুলছুম নামে দুই নারী মরদেহে পানি ঢেলে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তারা প্রশাসনের কাছে রাহেনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সরেজমিন তদন্ত, প্রয়োজনে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।





মন্তব্য করুন