শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সাভারে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ—তদন্তে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা

নির্দেশনিজস্ব প্রতিবেদক

নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগ, কোটি টাকার গাড়ি ও বহুতল ভবন নিয়ে প্রশ্ন—১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার , সাভারসাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ পাওয়া অনুসন্ধানী কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী সচিব মঈন উদ্দিন কাদির রোববার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন।মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গত ২২ এপ্রিল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মঈন উদ্দিন কাদিরকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁকে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রোববার সরেজমিন তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন কাদির বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাইয়ের জন্য তিনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসে বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষা করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্তের সময় তিনি যা যা তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন।অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে প্রায় কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল গাড়িতে চলাচল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী মনিরা সুলতানাও প্রায় ৫০ লাখ টাকার একটি গাড়ি ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে।এছাড়া সম্প্রতি ঢাকার মিরপুর এলাকায় ১০ তলা একটি ভবন নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ভবনের নির্মাণকাজে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মনিরা সুলতানার নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের উৎস ও প্রকৃতি নিয়েও তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তাঁর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়ও বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে।এদিকে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের মাসিক বেতন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। তুলনামূলকভাবে অল্প বেতনের চাকরির বিপরীতে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে রোববার দুপুরে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা অফিস ত্যাগ করার পর সাংবাদিকরা সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে রাজি হননি। বরং নিজের অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে অফিসের পিয়ন মিজানের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।এদিকে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অনেকেই মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা সামনে আসবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তদন্ত শেষে মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই তদন্তকে কেন্দ্র করে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box