শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

মোহাম্মদপুরে হাউজিং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: রাজউকের যোগসাজশে ১০–১৫ তলা অবৈধ ভবনের বিস্তার, চরম ঝুঁকিতে নগরবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি

ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি শক্তিশালী হাউসিং সিন্ডিকেট নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ১০ থেকে ১৫ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।মোহাম্মদপুর, ঢাকা উদ্যান, গ্রীন সিটি, তুরাগ হাউসিং, নবীনগর হাউসিং, চাঁদ উদ্যান ও বসিলা গার্ডেন সিটি—এলাকাগুলোতে অবৈধ বহুতল ভবনের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত এসব ভবনের কারণে পুরো এলাকাজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ নগর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, হাউসিং মালিক সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার মধ্যে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে এসব নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে নকশা বহির্ভূত নির্মাণ, অতিরিক্ত ফ্লোর যুক্তকরণ এবং নীতিমালা লঙ্ঘনকে “নীরব বৈধতা” দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।ফলে পুরো এলাকা এখন অনিয়ন্ত্রিত কংক্রিটের ঘন জঙ্গলে পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগনগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে পরিকল্পনাহীন বহুতল ভবন নির্মাণ অব্যাহত থাকলে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকা ভবিষ্যতে মারাত্মক নগর দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।তাদের মতে, এসব ভবনের অধিকাংশেই পর্যাপ্ত ভূমিকম্প প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি অনেক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এছাড়া পার্কিং ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং মানদণ্ডও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগস্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং দুর্নীতির কারণে অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম দিন দিন বেড়ে চলেছে।একজন বাসিন্দা বলেন,“আমরা প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”আরেকজন বলেন,“ঘুষ ও প্রভাবের কারণে সব কিছু চলছে। আইন থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই।”বিশেষজ্ঞদের সতর্কতানগর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মোহাম্মদপুর অঞ্চলে এভাবে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত বহুতল নির্মাণ চলতে থাকলে এটি একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নগর এলাকায় পরিণত হতে পারে।তাদের মতে, এতে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং ভবনধসের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হবে।নাগরিকদের দাবিস্থানীয়রা অবিলম্বে এসব অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং রাজউকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box