শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বেতনে নয়, দুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকার মালিক রাজস্ব কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের!

বিশেষ প্রতিনিধি:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামকে ঘিরে উঠেছে অবৈধ সম্পদ অর্জন, আয়কর ফাঁকি এবং সম্পদের প্রকৃত মূল্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ। সবশেষ তিনি ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাটে কর্মরত ছিলেন। তবে সরকারি চাকরির সীমিত বেতনের আড়ালে কীভাবে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন—সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।তার দাখিল করা আয়কর রিটার্ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকা ও টাঙ্গাইলে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি ও কৃষিজ সম্পদ। কিন্তু নথিতে এসব সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কর ফাঁকি দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়েছে।আয়কর নথি অনুযায়ী, রাজধানীর শাহজাহানপুরে “Aspen Heights” নামের আবাসিক ভবনের একটি ১,৫০৯ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৪০ লাখ ৯২ হাজার টাকা। অথচ স্থানীয়দের দাবি, ওই ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য ২ কোটি টাকারও বেশি।মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ এলাকায় ১.৫ কাঠার একটি সেমিপাকা বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। তবে জমির মূল্যই উল্লেখ করা হয়নি। স্থানীয়দের মতে, শুধু জমির মূল্যই ২ কোটি টাকার উপরে। একইভাবে কাটাসুর, বসিলা, রামচন্দ্রপুর ও জুয়ার সাহারা মৌজায় থাকা একাধিক জমির মূল্যও বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দেখানো হয়েছে।বিশেষ করে জুয়ার সাহারা মৌজার জমিতে চলতি আয় বছরে ৩০ লাখ টাকা সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য দেখানো হলেও বাস্তবে ওই সম্পত্তির বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি এলাকাবাসীর। এছাড়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খারজানা মৌজায় ৩৫.১ ডেসিমেল জমি বড় ভাইয়ের কাছ থেকে হেবা হিসেবে পাওয়ার তথ্য দেওয়া হলেও স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক সম্পর্ক ভালো না থাকায় এই তথ্য নিয়েও রয়েছে সন্দেহ।এছাড়া রক্ষিত বেলতা মৌজার জমি, টাঙ্গাইল সদরের আরও কয়েকটি সম্পদ এবং ১৮ বিঘা কৃষি ও অকৃষি জমির কোনো আর্থিক মূল্যই উল্লেখ করা হয়নি আয়কর নথিতে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব সম্পদের প্রকৃত বাজারমূল্য মিলিয়ে শত কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, একজন রাজস্ব কর্মকর্তার মাসিক বেতন সর্বসাকুল্যে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে। সেই বেতনে পরিবার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, “ঢাকা শহরে বর্তমান বাজারদরে সরকারি চাকরির বেতনে সংসার চালানোই কষ্টকর। সেখানে এত বিপুল সম্পদ অর্জন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নের জন্ম দেয়।”এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি। ফলে তার বিপুল সম্পদের উৎস এবং আয়কর নথিতে কম মূল্য দেখানোর বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box