নারায়ণগঞ্জ | বিশেষ প্রতিনিধি
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক পিয়ন হেলালের বিরুদ্ধে চাকরি জীবনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, সামান্য পিয়ন পদে চাকরি করেও তিনি রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট এবং টিনশেড বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।গ্রাহকসেবা ও অনিয়ম নিয়ে অভিযোগঅভিযোগ রয়েছে, তিতাস গ্যাসের গ্রাহকসেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয় না। বরং এনফোর্সমেন্ট টিম গ্যাসলাইনের সমস্যা সমাধানের চেয়ে অবৈধ সংযোগ, মিটার টেম্পারিং এবং প্রকৃত বিল গোপনের মতো বিষয়ে বেশি জড়িত থাকে বলেও অভিযোগ উঠেছে।এছাড়া প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।পিয়ন হেলালকে ঘিরে অভিযোগএই ধারাবাহিকতায় তিতাস গ্যাসের পিয়ন হেলালের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানী সূত্রের দাবি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি কান্দাপাড়া ও বটতলা এলাকায় তিনি তার পরিবারের নামে ও নিজ নামে একাধিক স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চাকরি জীবনের শুরু থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন।অভিযোগে উল্লেখিত সম্পদের তালিকাঅনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী হেলালের কথিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে—বটতলা এলাকায় এন আলাম স্কুলসংলগ্ন “শিশির ভিলা” নামক পাঁচতলা ভবন (কোচিং সেন্টারসহ)ভবনের পাশে আরেকটি টিনশেড বাড়ি, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকারুবি কটেজের পেছনে নির্মাণাধীন “স্বপ্ন কুটির” ভবনে নিজ ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাটরূপসি গার্ডেন নামক দশতলা ভবনে মেয়ের নামে দুটি ফ্ল্যাটবটতলা রোডের পাশে বাগানবাড়ি টাওয়ারে নিজ নামে ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটব্যাংকে নামে-বেনামে এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে বিপুল অর্থস্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি থেকে শত কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।বিদেশে অর্থ ও পারিবারিক ব্যয় সংক্রান্ত অভিযোগঅভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি তার ছেলেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কানাডায় পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াস্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করে বলেন, পিয়ন পদে চাকরি করে এত বিপুল সম্পদ অর্জন অবিশ্বাস্য। তারা আরও বলেন, একই এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত এক পেট্রোবাংলা কর্মকর্তা সৎভাবে চাকরি করেও তেমন সম্পদ গড়তে পারেননি, অথচ হেলালের সম্পদ কয়েকগুণ বেশি।স্থানীয়দের মতে, এসব দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।অভিযুক্তের বক্তব্যহেলালের বক্তব্য জানতে তার কর্মস্থল ও বাসস্থানে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার সব সম্পদ বেতন ও বোনাসের টাকায় অর্জিত।তবে আয় অনুযায়ী এত সম্পদ কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ।





মন্তব্য করুন