
বিশেষ প্রতিনিধি:
বাবার নামে কথিত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ এবং দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পদে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ একাধিক সংস্থার তদন্তের আওতায় এসেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বেবিচকে যোগ দেন শরিফুল ইসলাম। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি তার বাবা মো. মোশাররফ হোসেনের নামে একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করেন। তবে পরবর্তীতে ওই সনদের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, সনদটি ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যুকৃত দেখানো হলেও সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর রয়েছে—যা মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদানের প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর নথিপত্র যাচাইয়ে অসংগতি ধরা পড়ে।এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় মোশাররফ হোসেনের নাম না থাকায় সনদের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর হয়। পরে বিষয়টি বেবিচক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং দুদকের নজরে আসে এবং পৃথক তদন্ত শুরু করা হয়।একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও তদন্তেশরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু নিয়োগসংক্রান্ত নয়, বিভিন্ন সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০১৭ সালে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার নির্মাণকাজে অনিয়মকাওলা বেবিচক কোয়ার্টার সংস্কার প্রকল্পে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগকক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলাবিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধানদুদক সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি, বিল-ভাউচার ও প্রশাসনিক অনুমোদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় কিছু আর্থিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষে দেওয়া হবে।পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্নবিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর শরিফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। এই পদোন্নতি নিয়েও এখন প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে নীতিগত অবস্থানজাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি গেজেটে নাম না থাকলে কাউকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। গেজেটই চূড়ান্ত প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।তদন্ত চলমানতদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব নথিপত্র যাচাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কোটার অপব্যবহার, চাকরিতে প্রতারণা এবং সরকারি অর্থনৈতিক অনিয়মের একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত