
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: জাল বা ভুয়া সনদ ব্যবহার করে সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি নিয়ে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে বেলাল উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা চলছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, বেলাল উদ্দিন আকন্দ মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগসূত্র কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন।অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ‘মুজিবনগর কর্মচারী’ নামে একটি সনদ ব্যবহার করে সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি লাভ করেন। তবে তার জন্মসনদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর, যা সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া ১৯৭৭ সালে তার এসএসসি পাসের তথ্যও বিষয়টি ঘিরে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, ২০০৮ সালের আগে তার পরিবার একটি সাধারণ টিনের ঘরে বসবাস করলেও পরবর্তীতে তার সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি দৌলতপুরে তিনতলা আধুনিক ভবন, ঢাকায় ফ্ল্যাট, একাধিক গাড়ি এবং ব্যবসার মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগে উঠে আসা সম্পদের তালিকাঢাকার মিরপুরে পাঁচতলা বাড়ি ও দুইটি ফ্ল্যাটআশুলিয়া ও সাভারে স্প্রিং মিল ও শিল্পকারখানায় মালিকানাসিঙ্গাপুরে গার্মেন্টস ব্যবসার সংশ্লিষ্টতাপাজারো জিপ, প্রাইভেট কার ও একাধিক মোটরসাইকেলদৌলতপুর বাজার এলাকায় পাকা মার্কেট ও ৬০ শতাংশ জমিবাড়ির পাশে ৫০–৬০ বিঘা কৃষি জমি ও ইরি-বোরো প্রজেক্টমূলকান্দি ব্রিজ এলাকায় ৪০ শতাংশ ভিটেবাড়িএছাড়া স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের নামেও বিপুল সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে।দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগঅনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, চাকরির সময় তিনি প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ঘুষের অর্থ একটি চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।এ বিষয়ে জাহানারা আক্তার নামে এক নারীর সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অফিসের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার নামেও সম্পদ রয়েছে। তবে জাহানারা আক্তার বলেন, তিনি বেলাল উদ্দিন আকন্দকে চেনেন, তবে অফিসে কখনো বসেননি এবং সম্পদের বিষয়ে কিছু জানেন না।রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবস্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বেলাল উদ্দিন আকন্দ দৌলতপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন এবং তার স্ত্রী দেলোয়ারা আকন্দকে উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের পদে নিয়োগে ভূমিকা রেখেছেন।আত্মগোপন ও বর্তমান পরিস্থিতিস্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলনের পর থেকে তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে গত দুই মাস ধরে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কিছু নেতার সহযোগিতায় আবার এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।তাকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি বাজারে গেছেন। একাধিকবার ফোন করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।তদন্তের দাবিবিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত