শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ভুক্তভোগী নারীকে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ: পাথরঘাটা থানার ওসি প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার : বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাকে পাথরঘাটা থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এফ এম ফয়সাল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওসি এনামুল হককে পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলো।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওসি এনামুল হকের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করা এবং নারী ভুক্তভোগীদের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যসহ নানা অভিযোগ উঠে আসছিল। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।সম্প্রতি এক নারী ভুক্তভোগীর সঙ্গে ওসির কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই নারী অভিযোগ করেন, মামলা করতে গিয়ে তিনি ওসির কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা গ্রহণে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি তার সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলেন।এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরাও ওসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরেন। অনেকের দাবি, জরুরি প্রয়োজনে সরকারি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময় সাড়া পাওয়া যেত না।এ ছাড়া আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে অনীহা, নারী বাদীকে নিয়ে কটূক্তি এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের ঘাটতির অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত ছিল।ওসি এনামুল হককে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।তবে প্রত্যাহারের আদেশে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে কেবল ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অডিও-ভিডিওর প্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box