স্পোর্টস ডেস্ক:
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে দারুণ এক জয় দিয়ে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা। একই ম্যাচে দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরেছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। তবে সাফল্যের এই মুহূর্তেও ব্রাজিলকে যেন তাড়া করে ফিরছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি—জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের হার।মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।প্রথমার্ধে আরও একটি গোল করলেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়। তবে যোগ করা সময়ে ব্রুনো গুইমারেসের দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ভিনিসিয়ুস।দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিলের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ৬০ মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন ম্যাথিয়াস কুনহা। এই জয়েই গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে ব্রাজিল।তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে ৭৬ মিনিটে। প্রায় ৯৮১ দিন পর প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাঠে ফেরেন নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ দুই বছর আট মাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে তার প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। একই সঙ্গে চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নতুন একটি মাইলফলকও স্পর্শ করেন ব্রাজিলের এই তারকা।অন্য ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে মরক্কোও নকআউট পর্বে উঠেছে। তবে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের পরিসংখ্যান নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। এরপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারায়। ফলে তিন ম্যাচে তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭, আর হজম করা গোল মাত্র ১। একই সঙ্গে গ্রুপ পর্বে তাদের অর্জিত পয়েন্টও ৭।ফলাফল হিসেবে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের রেকর্ড দাঁড়িয়েছে ‘৭-১’, যা অনেক সমর্থকের মনে ফিরিয়ে এনেছে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি। নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি এখনও ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।তবে এবারের ‘৭-১’ সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প বলছে। এটি পরাজয় বা অপমানের নয়; বরং নকআউট নিশ্চিত করা, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং নেইমারের প্রত্যাবর্তনের আনন্দঘন এক সাফল্যের প্রতীক।





মন্তব্য করুন