
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট:সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম দায়িত্ব ছাড়ার আগে এ অর্থ মাজার তহবিলে জমা দেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি তহবিলের এ অর্থ কোন যুক্তিতে মাজারে দেওয়া হলো, যেখানে মাজারে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ দান আসে।জানা গেছে, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে ডিসি সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক দানের ডেক ও দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রত্যাহারের পরদিন তাঁর নির্দেশনায় সিলগালা করা দানবাক্স ও ডেক খুলে গণনা করা হলে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। এসব অর্থ মাজারের নামে নতুন খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা মাজার তহবিলে অনুদান হিসেবে জমা দেন সারওয়ার আলম। এরপর দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে তিনি সিলেট ত্যাগ করেন।এ ঘটনায় সচেতন নাগরিকদের একাংশের দাবি, শত শত বছর ধরে মাজারে বিপুল পরিমাণ দান আসছে। এমন অবস্থায় সরকারি তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া জনস্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, এই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হলে তা অধিক যৌক্তিক হতো।সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, মাজারকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব ছাড়ার আগে এই অনুদান রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সারওয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ আগস্ট সারওয়ার আলম সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে ফুটপাত উচ্ছেদ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানসহ বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য তিনি আলোচনায় ছিলেন। তবে মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তাঁর দায়িত্বের শেষ সময়কে সবচেয়ে বেশি আলোচিত করে তোলে।
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত