শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

‘আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমি গুম থেকে ফিরে আসা একজন ভুক্তভোগী’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বলেছেন, “আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি গুম থেকে ফিরে আসা একজন ভুক্তভোগী। এই পরিচয় আমি গর্বের সঙ্গে বহন করি। আল্লাহ যতদিন আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন এবং কথা বলার সুযোগ দেবেন, ততদিন আমি আমার অভিজ্ঞতার কথা বলে যাব—যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর এমন নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে না হয়।”শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ইন সাপোর্ট অব ভিক্টিমস অব টর্চারস ২০২৬’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ব্যারিস্টার আরমান বলেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “এই বাংলার মাটিতে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসব না।”অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম। তিনি বলেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোর কষ্ট কোনো ক্ষতিপূরণ দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা প্রিয়জন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর্থিক সংকটের কারণে তারা রাজধানীতে এসে নিজেদের কথা তুলে ধরার সুযোগও পান না। তাই এসব পরিবারের জন্য এককালীন বা মাসিক আর্থিক সহায়তা চালুর দাবি জানান তিনি।মীর আহমদ বিন কাশেম আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মম ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করতে ‘জুলাই জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, এ ধরনের জাদুঘর নতুন প্রজন্মকে স্বৈরাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষা দেবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা প্রতিরোধে সচেতন ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।অনুষ্ঠানে বক্তারা গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box