স্টাফ রিপোর্টার :
লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরীর নামে থাকা প্রায় ৩ কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা) মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল সম্পদের মালিকানা সম্প্রতি পরিবর্তন হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থা কোম্পানিজ হাউস ও ল্যান্ড রেজিস্ট্রির সর্বশেষ নথিপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।নথি অনুযায়ী, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রনি ৪২ লিমিটেড ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট নিবন্ধিত হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ওই দিনই আনিসুজ্জামান চৌধুরী পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং একই দিনে আজারবাইজানের নাগরিক নাসিব পিরিয়েভ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটির একক নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে পিএনএন ইউকে প্রোপার্টিজ লিমিটেড রাখা হলেও এর মূল নিবন্ধন নম্বর অপরিবর্তিত রয়েছে।এই কোম্পানির নামে লন্ডনের অভিজাত রিজেন্ট পার্ক এলাকার পার্ক ক্রিসেন্টে দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৯১ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ডে (প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা) কেনা হয়। অন্য অ্যাপার্টমেন্টটির ক্রয়মূল্য ও ক্রয়ের তারিখ নথিতে উল্লেখ নেই। বর্তমানে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সম্মিলিত বাজারমূল্য ২ কোটি পাউন্ডেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার সমান। সম্পদ দুটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আনিসুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরী তাঁর সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জিএস এসপিভি ওয়ান লিমিটেড-এর পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং নিজের নামে থাকা ১ হাজার শেয়ারের মধ্যে ৫০০টি (৫০ শতাংশ) শেয়ার অপর অংশীদার নাদিয়া মমিন ইমামের কাছে হস্তান্তর করেন। এর ফলে বর্তমানে নাদিয়া মমিন ইমাম কোম্পানিটির একক শেয়ারহোল্ডার ও নিয়ন্ত্রক মালিক।জিএস এসপিভি ওয়ান লিমিটেডের অধীনে লন্ডনের গ্রসভেনর স্কয়ারের পাশে গিলবার্ট স্ট্রিটে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ২০২২ সালের ১৫ জুলাই ৯৫ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড (প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা) ব্যয়ে অ্যাপার্টমেন্টটি কেনা হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।এ ছাড়া এর আগে উত্তর লন্ডনের নিউক্যাসল প্লেসের ওয়েস্টমার্ক টাওয়ারে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরও একটি আধুনিক বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এজওয়্যার রোডের কাছে অবস্থিত ওই অ্যাপার্টমেন্টটির মূল্য ১৬ লাখ ৬ হাজার ৪৫০ ব্রিটিশ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার সমান।বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই মালিকানা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





মন্তব্য করুন