শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বিএনপি নেতার পকেটে মন্দির উন্নয়নের বরাদ্দ!

বিএনপি নেতার পকেটে মন্দির উন্নয়নের বরাদ্দ!

নরসিংদী প্রতিনিধি: মন্দিরের উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দীপক কুমার বর্মণের (প্রিন্স) বিরুদ্ধে। তিনি জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব। টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তুষার দাস নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুড় এলাকায় অবস্থিত শীতলাবাড়ি মন্দির। সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেওয়া নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল এ মন্দিরের নামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দীপক কুমার বর্মণকে সভাপতি, সঞ্জয় ধরকে সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কিশান দাস পার্থ, সজয় দাস ও তুষার দাসকে সদস্য করে ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়। পরে কমিটির সভাপতি দীপক কুমার বর্মণকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১১ মে ওই চেক নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে টাকা আর মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি তিনি।

নিজ নামে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করার পরও শীতলাবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক অখিল দাসসহ কমিটির অন্য সদস্যরা বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে দীপক কুমার বর্মণ জানান, বরাদ্দের টাকা পাওয়া যায়নি, পেলে জানানো হবে।

অভিযোগকারী তুষার দাস বলেন, ‘অভিযুক্ত দীপক কুমার বর্মণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাবিত ফরমে আমাকে না জানিয়ে আমার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। এমনকি আমার স্বাক্ষর জাল করে ওই ফরমে আবেদন করে। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। এমনকি টাকা উত্তোলনের পর তিনি মন্দিরে কোনো টাকাও জমা দেননি। যদি টাকা জমা দিতেন তবে স্বাক্ষর জাল বা আমাকে না জানালেও কোনো সমস্যা ছিল না। তবে টাকা যেহেতু আত্মসাৎ করেছে, সে ক্ষেত্রে আমি এর বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দীপক কুমার বর্মণ বলেন, ‘বরাদ্দকৃত টাকার বিষয়ে মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস জানেন। আপনার কোনো কিছু জানতে হলে ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, কে বা কারা আমাদের মন্দিরের বরাদ্দকৃত টাকা স্বাক্ষর করে নিয়ে এসেছে। তবে এখনো আমরা কোনো অনুদানের টাকা পাইনি।’

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির নামে চেক ইস্যু করা। পরে তিনি নিজের ব্যাংক হিসাবে চেক জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করবেন। তবে টাকা পাওয়ার পর কবে মন্দির কমিটিকে বুঝিয়ে দেবেন বা নেবেন এটা ওনাদের ব্যাপার।’

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

সূত্র: কালবেলা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box