শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

টিকিট কেলেঙ্কারি: ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

টিকিট কেলেঙ্কারি: ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

অনলাইন ডেস্ক: বিমান টিকিট বিক্রির নামে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলায় প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

সিআইডি জানায়, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গত ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় প্রতিষ্ঠানটির সাতজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, মো. সাকীব হোসেন এবং মোতাহের হোসেন।

অগ্রিম টাকা নিয়েও দেওয়া হয়নি টিকিট

তদন্তে জানা গেছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট বিজনেস টু বিজনেস (B2B) এবং বিজনেস টু কনজিউমার (B2C)—উভয় পদ্ধতিতে বিমান টিকিট বিক্রি করত।

প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও অনেক গ্রাহককে টিকিট সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দেশ ছাড়েন ব্যবস্থাপনা পরিচালক

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, টিকিট সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশ ত্যাগ করেন।

এরপর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

মানিলন্ডারিং আইনে তদন্ত চলমান

সিআইডি জানিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং অর্থ পাচারের সম্ভাব্য পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box