
বগুড়া প্রতিনিধি: টানা ভারি বৃষ্টিতে বগুড়ার ৪০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চার হাজার ৯৬১ কৃষক। বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও রয়ে গেছে দুর্ভোগ। উজানের ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও মঙ্গলবার দুপুরে তা আবার বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।
বগুড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত চার হাজার ৯৬১ কৃষক
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সোমবার পর্যন্ত ১০ দিনে বগুড়ায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছরের পুরো জুলাই মাসে জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৩৯৫ দশমিক ৩ মিলিমিটার। অতিবৃষ্টিতে জেলার ৩৩ হাজার ২৫৩ হেক্টর চাষযোগ্য জমির মধ্যে ৪০০ হেক্টর ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলায় বর্তমানে ১১ হাজার ১৬০ হেক্টরে আউশ, ৯ হাজার ৫৮০ হেক্টরে পাট, ছয় হাজার ৭৫১ হেক্টরে সবজি, চার হাজার ৫১০ হেক্টরে আমনের বীজতলা, ৫৯২ হেক্টরে মরিচ এবং ৬৬০ হেক্টরে ভুট্টার আবাদ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ৩১ হেক্টর আউশ, ১১৫ হেক্টর পাট, ৯৬ হেক্টর সবজি, ১২৩ হেক্টর আমনের বীজতলা, ২২ হেক্টর মরিচ এবং ১৩ হেক্টর অন্যান্য ফসল।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলায়। সেখানে তিন হাজার ২০০ কৃষকের ১৬৮ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়া শাজাহানপুরে ১৪ হেক্টর, সোনাতলায় ৩৮, দুপচাঁচিয়ায় ৬০, কাহালুতে ৭৫ এবং আদমদীঘিতে ৪৫ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে বগুড়া সদর, শেরপুর, ধুনট, গাবতলী, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় এখনো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মাহফুজ আলম বলেন, বৃষ্টি কমলে অনেক ফসল রক্ষা পাবে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে এবং সরকারি প্রণোদনার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বান্দরবানে বন্যার পানি নামলেও রয়ে গেছে দুর্ভোগ
টানা কয়েক দিনের বন্যার পর ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বান্দরবানের পরিস্থিতির। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে বন্যার নানা ক্ষতচিহ্ন। বৃষ্টিপাত কমায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। এতে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছেন দুর্গত মানুষ। তবে বাড়ি ফিরেই কাদা, আবর্জনা, নষ্ট আসবাবপত্র এবং ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে বন্যার নানা ক্ষতচিহ্ন। বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লার স্তূপ, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ত্রাণ, পরিচ্ছন্নতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তবুও অনেক মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
তিস্ত তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
ভারি বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি সোমবার রাতে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি ৫২ দশমিক ১০ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। এতে জেলার তিস্ত তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, পানি কমতে শুরু করায় প্লাবিত এলাকার পানি ধীরে ধীরে নামছে। তবে অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘গত মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলার প্রায় ১১ কিলোমিটার নদীতীর নদীশাসনের কাজ করা হয়েছে। ফলে এবার বড় ধরনের প্লাবন এড়ানো গেছে। আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার নদীশাসনের কাজ শেষ করা গেলে ভবিষ্যতে বন্যার ঝুঁকি আরও কমবে।’
জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক বলেন, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা পর্যায়ে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতায় নাকাল জামালপুর পৌরবাসী
জামালপুর পৌর শহরে এখন আর জলাবদ্ধতা শুধু বর্ষাকালের সমস্যা নয়, এটি ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী নাগরিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সামান্য মাঝারি বৃষ্টিতেই শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নামতে কোথাও কয়েক ঘণ্টা, কোথাও আবার এক-দুদিন লেগে যায়। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে শহরের জনজীবন।
মঙ্গলবার দুপুরে জলাবদ্ধতাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জামালপুর-৫ আসনের সংসদ-সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
সূত্র: যুগান্তর
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত