শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সাঁথিয়ায় সালিশে ‘২০ জুতা’ শাস্তি, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সাঁথিয়ায় সালিশে ‘২০ জুতা’ শাস্তি, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি গ্রাম্য সালিশে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করার ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মহব্বৎ আলী খাঁর স্ত্রী রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ গ্রহণের পর পুলিশ মামলাটি রুজু করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় প্রতিবেশী এরশাদ আলীর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট একটি ঘটনাকে ঘিরে গ্রামে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

বাদীর অভিযোগ, সালিশে তার স্বামী মহব্বৎ আলী খাঁকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাইলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সালিশকারীরা সরে আসেননি। একপর্যায়ে সালিশস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সালিশ পরিচালনাকারীদের নির্দেশে দুই ব্যক্তি প্রকাশ্যে মহব্বৎ আলী খাঁকে ২০টি জুতার আঘাত করেন। পরে তিনি বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাস্টার, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক, বর্তমান সদস্য আরশেদ আলীসহ মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথক আরেকটি মামলা হয়েছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীর ভাই এরশাদ আলী বাদী হয়ে মহব্বৎ আলী খাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কী ঘটেছিল?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই দুপুরে মহব্বৎ আলী খাঁ কাঠাল কাটার অজুহাতে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে একটি কাচি নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, পরে বাড়িতে একা থাকা এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গ্রাম্য সালিশে তাকে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সেই ঘটনাই এখন আদালত ও থানার মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box