শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি প্রবাসী যুবকের বাড়িতে ২ নারীর অনশন

সৌদি প্রবাসী যুবকের বাড়িতে ২ নারীর অনশন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নাজমুল ইসলাম (৩০) নামে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে একসঙ্গে দুই নারী অনশন করছেন। উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, নাজমুল ওই এলাকার আমবাজ আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। তিনি এর আগেও এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি সেই নারীকে তালাক দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই নারীর সঙ্গে আলাদাভাবে নাজমুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রবাসে থাকা অবস্থায় দুই নারীর সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ করতেন তিনি। গত ৪ জুলাই ছুটিতে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর কামরাবাদ ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়ি গ্রামের এক নারীকে তিনি বিয়ে করেন।

এর তিন দিন পর ৭ জুলাই কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের এক নারীকে তিনি বিয়ে করেন।
দুই বিয়ে সম্পন্ন করে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে তার দুই স্ত্রী স্বামীর খোঁজে শ্বশুরবাড়ি এসে দেখেন তার কোনো হদিস নেই। এ অবস্থায় স্ত্রীর অধিকার পেতে তারা এক সপ্তাহ ধরে সেখানে একসঙ্গেই অনশনে আছেন।’

নাজমুলের বাবা আমবাজ আলী জানান, হেলেঞ্চাবাড়ির মেয়েটির সঙ্গে আগে তার ছেলের বিয়ের আলোচনা হয়।

তবে তিনি তখন তাকে বিয়ে না করে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেন। পরে তিনি তাকে তালাক দিয়ে বিদেশে চলে যান।
তিনি বলেন, শুনেছি বিদেশ থেকেও নাকি মেয়েটির সঙ্গে নাজমুল যোগাযোগ রেখেছিল। দেশে এসে আমাদের না জানিয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে।

নাজমুলের মা শাহনাজ বেগম জানান, দ্বিতীয় মেয়েটি তার ছোট ছেলের স্ত্রীর বড় বোন। সম্প্রতি তার মা এসে তাকে তাদের বাড়িতে রেখে গেছেন। এখন তারা কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।

এদিকে, অনশনরত দুই নারী জানান, তারা একে অপরের বিয়ের ব্যাপারে জানতেন। নাজমুল তাদের দুজনকেই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছেন। এখন স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব না নিয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ছেড়ে যাওয়ার জন্য তারা তাকে বিয়ে করেননি। তিনি দুজনকে নিয়ে সংসার করবেন, নাকি একজনকে নিয়ে, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত নাজমুলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box