শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

গাজীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

গাজীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস সাত্তার দাবি করেছেন, তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কারাগারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ও দায়িত্ব বণ্টনে আব্দুস সাত্তারের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকতে চাইলে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডে তার স্ত্রী এবং গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার রফিকুল কাদের খোকনের নামও উঠে এসেছে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বদলির ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, চাকরিতে যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মাথায় আব্দুস সাত্তার গুরুত্বপূর্ণ সিআইডি ডিউটিতে দায়িত্ব পান। এরপর একাধিকবার ওই দায়িত্ব পালন করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া মোবাইল ডিউটি, সাক্ষাৎ কক্ষ, স্লিপ লেখা ও আরপি ডিউটিসহ বিভিন্ন দায়িত্বে থেকেও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন বন্দির কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। নির্ধারিত অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তরের ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুস সাত্তার নিজেকে প্রভাবশালী দাবি করে বিভিন্ন সময় সহকর্মীদের কাছে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আইজি প্রিজন্স বা ডিআইজি প্রিজন্সও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। এমনকি জেল সুপারের সমর্থন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগকারীরা জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সম্পৃক্ততার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, কারারক্ষী আব্দুস সাত্তার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box