শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

‘ভূতুড়ে’ শিক্ষার্থীর নামে খাবার বরাদ্দ, আত্মসাতের অভিযোগ

‘ভূতুড়ে’ শিক্ষার্থীর নামে খাবার বরাদ্দ, আত্মসাতের অভিযোগ

পাবনার বেড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবে উপস্থিত না থাকা শিক্ষার্থীর নাম দেখিয়ে অতিরিক্ত খাবার বরাদ্দ নেওয়া এবং উদ্বৃত্ত ডিম, দুধ, কলা, বনরুটি ও বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকারের এই পুষ্টি কর্মসূচি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সরেজমিনে একাধিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম।

৩৬ নম্বর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় ১১১ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন ১৭১ জনের নামে খাবার আসে। এতে ৪০ থেকে ৫০ জনের খাবার উদ্বৃত্ত থাকে, যা শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাইল হোসেন দাবি করেন, পচনশীল খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তারা নিয়ে থাকেন, আর দুধ ও বিস্কুট সংরক্ষণ করা হয়।

একই চিত্র পাওয়া গেছে রূপগঞ্জ ও মির্জাপুর-শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। বরাদ্দের তুলনায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল অনেক কম। অভিভাবকদের অভিযোগ, ‘ভূতুড়ে’ শিক্ষার্থী দেখিয়ে অতিরিক্ত খাদ্য বরাদ্দ নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্বৃত্ত খাবার আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চালু হওয়া এই কর্মসূচি এখন অনিয়মের সুযোগে পরিণত হয়েছে।

বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, উপস্থিতি কম হলে উদ্বৃত্ত খাবার উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের নিয়ম রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box