শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

৪৫ হাজার টাকার চাকরি, অভিযোগ ৫৯ কোটি টাকার সম্পদ; পাসপোর্ট কর্মকর্তাকে ঘিরে তোলপাড়

৪৫ হাজার টাকার চাকরি, অভিযোগ ৫৯ কোটি টাকার সম্পদ; পাসপোর্ট কর্মকর্তাকে ঘিরে তোলপাড়

মাসিক বেতন-ভাতা মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। অথচ সেই আয়ের বিপরীতে রাজধানীর অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫৯ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। তার নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও শ্যালকের নামেও বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ থাকার তথ্য সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়েই তার অধিকাংশ সম্পদ গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। পরে গত বছরের ২৮ অক্টোবর তাকে মাদারীপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসে বদলি করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোটি টাকার জমি-ফ্ল্যাট

অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, তেজগাঁও ও কেরানীগঞ্জে নিজের, স্ত্রী শাহিনা পারভীন এবং শ্যালক হাসিবুল ইসলামের নামে মোট ৩৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে।

এর মধ্যে গুলশানের একটি আবাসিক প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর ও বাড্ডার জমির মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা এবং ধানমন্ডিতে স্ত্রীর নামে থাকা জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। তেজগাঁও ও কেরানীগঞ্জেও রয়েছে আরও কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি।

এসবের পাশাপাশি আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে একটি ফ্ল্যাট, আরও কয়েকটি আবাসিক ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন মার্কেটে দোকান থাকার অভিযোগও রয়েছে।

ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে একাধিক লেনদেন

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, হেলাল উদ্দিন ও তার পরিবারের নামে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে মোট সাতটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এছাড়া বিকাশ ও নগদসহ মোবাইল আর্থিক সেবার অন্তত ১০টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার হেলাল উদ্দিনের

বিপুল সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে হেলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলা যাবে না। ঢাকা শহরে আমার এত সম্পদ নেই। যা আছে, তার সবকিছুর কর ও ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে। এর বাইরে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অবস্থান

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে দেওয়া লিখিত জবাবে অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: আমাদের মাতৃভূমি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box