
অনলাইন ডেস্ক:রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থপাচার এবং আত্মীয়স্বজনের নামে ঠিকাদারি পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ চাকরি জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত থাকাকালে তিনি নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে অতীতেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত এবং বিভাগীয় অনুসন্ধান হয়েছে। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, রূপনগর, টোলারবাগ, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার করে কানাডায় বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার নিকটাত্মীয়দের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো বিভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পাবনায় কর্মরত অবস্থায় রূপপুর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। সে সময় স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাও ঘটে। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরবর্তীতে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলে পদায়ন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
বর্তমানে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি।
তবে এ বিষয়ে প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।




মন্তব্য করুন