শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ধ-র্ষ-ণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ধর্ষণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওএসডিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আজমত হোসাইন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এদিন ওই প্রতিবেদন গ্রহণের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত না থাকায় ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্তের সঙ্গে বাদীর পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন সময় অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরার সরকারি বাংলোয় বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন অভিযুক্ত। এরপর ৮ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজেকে বাদীর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিসের রেস্টরুম এবং ঢাকায় বাদীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, পরে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন জহিরুল ইসলাম। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগী নারী চলতি বছরের ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত শেষে গত ১৪ জুলাই স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালত সর্বশেষ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box