
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুষের দাবি পূরণ না করায় সরকারি ভাতার অর্থ ফেরত যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রধান সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং পদোন্নতিতে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জানা গেছে, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাবুল হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, তার পদোন্নতির বৈধতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যৌথ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মাঠপর্যায়ের তিন কর্মচারীর শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ও ভাতা অনুমোদন হয়। পরে আরও তিনজন একই সুবিধার জন্য আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট খাতে সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অর্থ আনতে অতিরিক্ত খরচের অজুহাতে বাবুল হোসেন আবেদনকারীদের কাছে অর্থ দাবি করেন। তার দাবি অনুযায়ী অর্থ না দেওয়ায় অনুমোদিত ভাতার বিল প্রক্রিয়াজাত করা হয়নি এবং নতুন আবেদনগুলোরও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ফলে জুন মাসে অর্থবছরের ক্লোজিংয়ের সময় বরাদ্দের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে যায়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাবুল হোসেন প্রথমে এমএলএসএস পদে চাকরিতে যোগ দিয়ে পরে অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে পদোন্নতি পান। তবে তার কম্পিউটার পরিচালনা ও টাইপিং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী এ পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও টাইপিং দক্ষতা বাধ্যতামূলক হলেও তার ক্ষেত্রে সেই শর্ত পূরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও বাবুল হোসেন বর্তমানে প্রধান সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার—দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাবুল হোসেন। তিনি দাবি করেন, শ্রান্তি বিনোদন ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ ছিল না। এজন্য বিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। সংশোধিত কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দ শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বাবুল হোসেনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তিনি জবাব দিয়েছেন এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা সিভিল সার্জন আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





মন্তব্য করুন