
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়ড়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় ক্লিনিক চালু হওয়ার কথা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি মল্লিকা রানী রায় প্রায় এক যুগ ধরে সময়মতো দায়িত্ব পালন করছেন না। অনেক দিনই তিনি দুপুর ১২টার দিকে ক্লিনিকে আসেন এবং অল্প সময় অবস্থান করে দুপুর ১টার মধ্যেই ক্লিনিক বন্ধ করে চলে যান। ফলে সকাল থেকে অপেক্ষা করা রোগীদের অনেকেই চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এছাড়া সরকারি ওষুধ বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক সময় বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকা ওষুধের জন্য রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সয়ড়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নান, রোজেল তালুকদার, মরিয়ম বেগম, রহিমা বেগম, খাদিজা বেগম, দুলাল মিয়া, নয়া মিয়া, এনামুল হক, মাহাবুল হক, বিদিতর গ্রামের সোহেল, মেছনী গুন্ডা গ্রামের রাজু মিয়া ও দুলালী বেগমসহ একাধিক রোগী জানান, সকাল থেকে অপেক্ষা করেও নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয় না, আবার ওষুধ দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে সকাল ১১টায় ক্লিনিক বন্ধ পাওয়া যায়। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেননি। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাকে ক্লিনিকে আসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এ সময়ের ভিডিও এবং রোগীদের বক্তব্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ক্লিনিকের সামনের পরিবেশ অত্যন্ত অগোছালো। রোগীদের ব্যবহারের জন্য স্থাপিত টিউবওয়েল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ছেন সেবা নিতে আসা মানুষ।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, অভিযোগটি তার জানা ছিল না। বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজানুল হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি অবগত হয়েছেন। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিক চালু রাখা, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।





মন্তব্য করুন