শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

১৫ বছর আগের ব্যবসায়ী হ-ত্যা মামলায় দুই ছিনতাইকারীর যাবজ্জীবন

১৫ বছর আগের ব্যবসায়ী হ-ত্যা মামলায় দুই ছিনতাইকারীর যাবজ্জীবন

রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানার শ্যামবাজার এলাকায় প্রায় ১৫ বছর আগে কাঁচামালের ব্যবসায়ী মো. চুন্নু মিয়াকে ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পৃথক সাজাও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. মামুন এবং বাবু ওরফে বাঘা বাবু। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এছাড়া ছিনতাইয়ের অপরাধে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই পলাতক ছিলেন। ফলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত চুন্নু মিয়া গেণ্ডারিয়ার শ্যামবাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার থেকে সবজি কিনে রিকশাযোগে শ্যামবাজারে ফিরছিলেন। ভোরের দিকে কাঠেরপুল এলাকায় পৌঁছালে একদল ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় চুন্নু মিয়া অভিযুক্তদের চিনতে পেরেছেন বলে জানালে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন নিহতের শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর গেণ্ডারিয়া থানায় ছিনতাই ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৪ জুন পুলিশ তিন আসামি—সজিব, মামুন ও বাঘা বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ৭ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

বিচার চলাকালে আদালত ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ সময় আসামি সজিব মারা যাওয়ায় আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামুন ও বাঘা বাবুকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এ রায় দেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box