শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জমির মালিকানা জটিলতায় সড়কের কাজ বন্ধ

জমির মালিকানা জটিলতায় সড়কের কাজ বন্ধ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আব্দুর সবুর প্রামাণিক নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী বাসিন্দার বাধায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ২৫ পরিবারের সদস্যদের।

ঘটনাটি উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম পদ্মপাড়া গ্রামের। অভিযুক্ত আব্দুর সবুর প্রমাণিক ওই গ্রামের মৃত মোকদম আলীর ছেলে।

এদিকে, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নির্মাণের পাশাপাশি কাজ বন্ধ করে দেওয়া ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গ্রামবাসীর স্বাক্ষর করা একটি আবেদন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম পদ্মাপাড়া গ্রামের কাঁচা সড়কটি সেখানকার ২৫টি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে আসছে। তবে সড়কটি কাঁচা হওয়ায় কৃষকদের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতসহ চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

একপর্যায়ে গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তালম ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুল হামিদ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এডিপির অর্থায়নে ইট বিছানোর জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ পায় ১৫৫ ফুট দীর্ঘ সড়কটি।

এদিকে, কাজ শুরু হলে সড়কটির জায়গা নিজেদের দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর সবুর প্রামাণিক। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ করে দেন তিনি।

গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুল সালাম, আব্দুল মান্নান, মো. আছাদুজ্জামানসহ কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, গ্রামে আমরা ২৫টি পরিবার বসবাস করি। চলাচলের একমাত্র সড়ক হওয়ায় এটি স্থানীয় শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষকে ব্যবহার করতে হয়। এ কারণে সড়কে ইট বিছানো জরুরি ছিল। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালী বাসিন্দা আব্দুর সবুর প্রামাণিকের বাধায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বাসিন্দা আব্দুর সবুর প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। তার পরও চলাচলের জন্য রাস্তা দিয়েছি। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ অর্থে আমার ব্যক্তিগত জায়গায় কাজ করতে দেব না।’

তালম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নাজির উদ্দিন বলেন, ‘গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি ইউনিয়ন পরিষদে রাস্তাটির ইট বিছানোর কাজ পাশ করিয়েছিলাম। অথচ এক ব্যক্তির বাধায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিন গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র: কালের কন্ঠ

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box