শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-ঘুষ-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-ঘুষ-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক পদে দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই আদেশ কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পরে বদলির আদেশও বাতিল করা হয়, যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি গেস্ট হাউস দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক আবাসন হিসেবে ব্যবহার, অফিসের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং নির্ধারিত অফিস সময় অনুসরণ না করার মতো অনিয়মও ঘটেছে। এর ফলে সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কর্মকর্তারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া অফিস পরিচালনা, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ভেন্যু ভাড়া ও বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যয়ের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিক খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।

সরকারি গাড়ি ও জনবল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা দিতে ঘুষ নেওয়া, বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই শোকজ বা বিভাগীয় মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব কারণে বিভাগীয় কার্যালয়ে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি শিক্ষকদের কোচিং কার্যক্রম এবং ডেপুটেশন বদলি নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রচলিত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box