শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

মতিঝিলে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ: নতুন পরিচয়ে সক্রিয় পুরোনো সিন্ডিকেট, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক

মতিঝিলে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ: নতুন পরিচয়ে সক্রিয় পুরোনো সিন্ডিকেট, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক

রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় আবারও একটি পুরোনো চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আড়ালে থাকার পর অভিযুক্ত একটি চক্র নতুন পরিচয়ে পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসকে কেন্দ্র করে আবারও চাঁদা দাবির ঘটনা বাড়ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি প্রদর্শন, উচ্ছেদের হুমকি এবং নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, “রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারব বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন আবার আগের মতো চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

আরেক ব্যবসায়ী জানান, অতীতেও একই ধরনের চাঁদাবাজির কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। সম্প্রতি আবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে যেসব অভিযোগ

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতিঝিল বিমান অফিস গলি এলাকায় আবুল হাসান নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পুরোনো একটি চক্র আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মতিঝিল, গুলিস্তান ও পুরানা পল্টন এলাকায় পুরোনো সহযোগীদের নিয়ে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি ফুটপাত ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চলছে। এমনকি কয়েকটি সরকারি দপ্তরকেও কেন্দ্র করে অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে।

অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, গত দেড় দশক ধরে মতিঝিল এলাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রভাব ছিল। সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলার কথাও স্থানীয় সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয়?

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুদিন এলাকা ছেড়ে ছিলেন। তবে সম্প্রতি নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এবং স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞের মত

সুপ্রিম কোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল হাসান ওরফে হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরাপদ ও চাঁদাবাজিমুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box