শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দেওয়ায় ‘ইয়াবা চেয়েছেন’ ওসি, অভিযোগ কলেজছাত্রের

মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দেওয়ায় ‘ইয়াবা চেয়েছেন’ ওসি, অভিযোগ কলেজছাত্রের

বাগেরহাটের শরণখোলায় এক মাদক কারবারিকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার পর থানার ওসি রোকেয়া খানমের রোষানলে পড়ার অভিযোগ করেছেন শফিকুল ইসলাম মুসা নামের এক কলেজছাত্র।

তার দাবি, মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দেওয়ার পর ওসি নিজেই তার কাছে ইয়াবা দাবি করছেন। ইয়াবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড় এলাকার বাসিন্দা কলেজছাত্র মো. শফিকুল ইসলাম মুসা। অভিযোগের সঙ্গে অডিও কল রেকর্ড, ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে শফিকুল ইসলাম মুসা বলেন, শনিবার (২ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে শরণখোলা থানা এলাকায় কথিত মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদারকে দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে ওসি রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ইলিয়াসকে আটক করে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, ইলিয়াসকে আটকের পর ওসি তাকে ১০০ পিস ইয়াবা নিয়ে থানায় যেতে বলেন। এরপর ইলিয়াসের নামে তিনি মামলা দেবেন বলে জানান। একথা শুনে কলেজছাত্র বলেন, স্যার আমি কোথায় ইয়াবা পাব?

পরে আবার ৫০ পিস ইয়াবা থানার গেটের সামনে রেখে যেতে বলা হয়। ওসির বডিগার্ড নাহিদ হাসান সুমনের মাধ্যমে তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শফিকুল আরও দাবি করেন, ইয়াবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশের কথা বলে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন।

তবে কলেজছাত্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম। তিনি বলেন, রোববার বিকেল ৫টার দিকে ইলিয়াস তালুকদারকে ১৮ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম গাঁজা ও প্রায় ২৯ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়েছে।

মুসাকে ইয়াবা দিতে বলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, মুসাকে আমি কোনো ইয়াবা দিতে বলিনি। তাকে আমার কাছে আসতে বলেছি। অপরাধী ধরতে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের কৌশল বা ফাঁদ ব্যবহার করতে হয়।

অভিযোগে উল্লিখিত অডিও, ভিডিওসহ অন্যান্য প্রমাণের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, অভিযোগটি তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box