
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদরাসার ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তবে এই ১৮ জনের কেউ পাস করতে পারেনি।
মাদরাসাটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন।
শুধু পেড়লী দাখিল মাদরাসা নয়, উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা দাখিল মাদরাসার চিত্রও একই। এই মাদরাসাতেও কেউ পাস করতে পারেনি।
যশোর বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নড়াইল জেলা থেকে এবার মোট ৮ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
জেলায় মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০৪ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে শিক্ষা বোর্ডের (সাধারণ) জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৭০ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ১৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ জন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলার পেড়লী দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। দোতলা ভবনে উঠতেই চোখে পড়ে মাদরাসার অধ্যক্ষের কক্ষ।
কথা হয় পেড়লী দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আশরাফুল জাম্মানের সঙ্গে। তিনি বলেন, অন্য বছর ফলাফল ভালো হলেও এ বছর ফলাফল খুবই খারাপ। আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভালো শিক্ষার্থীও রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা অভিভাবক সমাবেশ করব। সেখানে সব শিক্ষক থাকবেন।
যেসব শিক্ষার্থীর সন্দেহ আছে, তাদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হবে। এরপর প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।
পেড়লী দাখিল মাদরাসাটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১৯৯৩ সালে মাদরাসাটি এমপিও করা হয়। বর্তমানে এই মাদরাসায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তার বিপরীতে অধ্যক্ষসহ ১৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। গত ২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে শতভাগ পাস ছিল। এ বছর শতভাগ ফেল হাওয়ায় অনেকটা হতাশ শিক্ষকরা।
অন্যদিকে আফরা দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসাটি জরাজীর্ণ পড়ে আছে। সেখানে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই। মাদরাসার অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছি। এমপিও না হওয়ায় মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে পরীক্ষার খারাপ ফলাফল কিছুতেই মেনে নিতে রাজি নয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। মাদরাসাটি থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী তুষ্মি খানম। সে বলে, আমি পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছি। শ্রেণিকক্ষে প্রথম অবস্থানে থাকি। ফলাফল শিটে সব কয়টিতে জিপিএ ৫ পেয়েছি। ইংরেজি পরীক্ষা ভালো দিয়েছি। কিন্তু ফেল দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি খুবই বিস্মিত। উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করব। আমার বিশ্বাস, ফল পরিবর্তন হবে।
সদর উপজেলার পেড়লী গ্রামের রুমা বেগম নামের এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী। পড়াশোনার শুরু থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় হয়। মেয়েটি পরীক্ষা ভালো দিয়েছে। কিন্তু তাকে ইংরেজিতে ফেল দেখানো হয়েছে।
নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, নড়াইল থেকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দুইটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। আমরা সেখানে যাব। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। আগামীতে যেন স্কুলের রেজাল্ট ভালো হয় সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।





মন্তব্য করুন