শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জে জবির শিক্ষার্থীবাহী বাসে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৫

মানিকগঞ্জে জবির শিক্ষার্থীবাহী বাসে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৫

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীবাহী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাসে থাকা চার শিক্ষার্থী ও চালকসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী পূর্ণিমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাইড দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস সাভারের দিকে যাচ্ছিল। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুর এলাকায় সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে কাওসার হোসেন নামের এক অটোরিকশার যাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে কাওসারকে শিক্ষার্থীরা মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে জবি শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘কালীগঙ্গা’ বাসটি হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যায় বাসটি ভূমদক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে কাওসার হোসেনসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল বাসটির গতিরোধ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও বাসচালক আহত

হামলায় শিক্ষার্থী পূর্ণিমা, আখি আক্তার, রিনভি ও উদয় চক্রবর্তী এবং বাসচালক সাজ্জাদ হোসেন আহত হন।

আহত পূর্ণিমা, উদয় চক্রবর্তী ও বাসচালক সাজ্জাদ হোসেনকে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আখি আক্তার ও রিনভিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে পূর্ণিমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

থানায় মামলা

ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই সিংগাইর থানায় মামলা করেন বাসচালক সাজ্জাদ হোসেন। মামলায় কাওসার হোসেনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাসটির গতিরোধ করে ভাঙচুর চালান। একই সঙ্গে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা করা হয়।

‘শিক্ষার্থীরা আগে মারধর করেছে’

মামলার আসামি কাওসার হোসেন সিংগাইর উপজেলার ভূমদক্ষিণ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।

কাওসারের বাবা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তার স্ত্রী ও ছেলে পাত্রী দেখার জন্য আমিনবাজারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে বলিয়ারপুর এলাকায় সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাওসারের কথা কাটাকাটি হয়।

তার দাবি, একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তার ছেলেকে মারধর করেন। পরে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাওসার ও স্থানীয় কয়েকজন জবি শিক্ষার্থীবাহী বাসে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এর জন্য আমি অনুতপ্ত।’

গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কাওসারের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে জবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে জানিয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box