
রাজধানীর পল্লবীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে বসতবাড়ি দখল এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আছিয়া নামের ৬০ বছর বয়সী এক নারী পল্লবী থানায় মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে করা মামলায় রাসেল (৩৬), ইব্রাহীম (৩০), শাহিন (৩৬), নওশাদ (৪০) ও অমিত (৩৮) নামে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিরপুর-১১ নম্বরের রাবেদা ক্যাম্প এলাকায় আছিয়ার একটি বসতবাড়ি রয়েছে। অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্তরা ওই বাড়িতে গিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে হলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা পরিশোধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। টাকা না দিলে বাড়ি দখল এবং আছিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানমালের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২১ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আছিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করে আবারও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
আছিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলার প্রধান আসামি রাসেল পিস্তল বের করে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনি আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আছিয়ার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরাও এ ঘটনায় অংশ নেন। তাঁদের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে ‘আশিক গ্যাং গ্রুপ’-এর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ভবিষ্যতে চাঁদার টাকা না দিলে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ওপর বড় ধরনের হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আছিয়া।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির বলেন, মামলার আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।





মন্তব্য করুন