শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ মেরুর বরফে ‘অধরা’ কণা শনাক্ত করে নোবেল জয়

দক্ষিণ মেরুর বরফে নিউট্রিনো শনাক্তে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন।
দক্ষিণ মেরুর বরফে ‘অধরা’ কণা শনাক্ত করে নোবেল জয়

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ মেরুর বরফে মহাবিশ্ব থেকে আসা দুর্লভ ও রহস্যময় ‘অধরা’ কণা নিউট্রিনো শনাক্তে যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।

অ্যান্টার্কটিকার গভীর বরফস্তরকে বিশাল টেলিস্কোপে রূপান্তর করে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য অনুসন্ধানের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের বরাত দিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউট্রিনো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকলেও সহজে শনাক্ত করা যায় না। কোটি কোটি নিউট্রিনো প্রতিনিয়ত কোনো বাধা ছাড়াই মানবদেহ ও পৃথিবীর ভেতর দিয়ে চলে যায়। অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে কোনো নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আঘাত করলে এবং উপযুক্ত যন্ত্র থাকলে কেবল তা শনাক্ত করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা জানতেন, মহাবিশ্বে এমন প্রাকৃতিক কণা ত্বরক রয়েছে, যেখান থেকে পৃথিবীর গবেষণাগারের তুলনায় প্রায় ১০ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী কণা নির্গত হয়। তবে এসব কণার উৎস ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন রহস্য হয়ে ছিল।

উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো পথিমধ্যে দিক পরিবর্তন বা শক্তি হারায় না। ফলে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকেও এগুলো সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে এবং মহাবিশ্বের চরম শক্তিশালী পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য দেয়।

১৯৮৮ সালে হালজেন প্রথম প্রস্তাব করেন, দক্ষিণ মেরুর আদিম ও স্বচ্ছ হিমবাহের বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব। নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আঘাত করলে বরফের গভীরে মৃদু আলোর ঝলকানি তৈরি হয়।

হালজেনের নির্দেশনায় ২০১১ সালে বরফের নিচে প্রায় ১ ঘনকিলোমিটার এলাকায় ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ নির্মাণ সম্পন্ন হয়। আলোক-সেন্সরসমৃদ্ধ এই অবজারভেটরির মাধ্যমে গবেষকরা সৌরজগতের বাইরের মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

নোবেল কমিটির পদার্থবিজ্ঞান শাখার চেয়ারম্যান মার্ক পিয়ার্স বলেন, হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অসাধারণ একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন। তাঁর অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন যুগের পথ তৈরি করেছে।

আইসকিউব অবজারভেটরিতে জমা হওয়া নিউট্রিনোর তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা এসব কণার উৎপত্তিস্থল মহাবিশ্বের চরম পরিবেশ সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box