শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ভুয়া স্পন্সরে ইতালিতে ‘শ্রমদাস’ বানানোর অভিযোগ, সিআইডির প্রতিবেদনে প্রাথমিক সত্যতা

ইতালিতে বৈধ কাজের আশ্বাসে রাসেলকে আটকে ‘শ্রমদাস’ হিসেবে বিক্রির চেষ্টা ও ভুয়া স্পন্সরের অভিযোগে করা মামলায় সিআইডি প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে।
ভুয়া স্পন্সরে ইতালিতে ‘শ্রমদাস’ বানানোর অভিযোগ, সিআইডির প্রতিবেদনে প্রাথমিক সত্যতা

অনলাইন ডেস্ক: ইতালিতে বৈধ কাজের আশা দিয়ে নিয়ে ভোলার লালমোহনের মো. রাসেলকে ঘরবন্দি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে অন্যত্র ‘শ্রমদাস’ হিসেবে বিক্রির চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় করা মামলায় সিআইডির তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

রাসেলের অভিযোগ, পাচারকারী চক্রের সদস্য মো. সাঈদের কাছে বৈধভাবে কাজ দেওয়ার আকুতি জানালে তিনি নতুন স্পন্সরের আশ্বাস দিয়ে আরও চার লাখ টাকা দাবি করেন। দেশে ফিরে টাকা জোগাড় করে দ্বিতীয়বার ইতালি গেলেও তাঁকে একইভাবে আটকে রাখা হয়। পরে এক ব্যক্তির সহায়তায় পালিয়ে পূর্বপরিচিত একজনের কাছে আশ্রয় নেন তিনি।

ইতালি পুলিশের সহায়তায় কাগজপত্র যাচাই করে রাসেল জানতে পারেন, তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ এবং যে স্পন্সরের ভিত্তিতে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল, সেটি ভুয়া। পরে স্বজনদের পাঠানো টিকিটে তিনি দেশে ফেরেন।

এসব অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মানবপাচার ও অভিবাসন ট্রাইব্যুনালে সাঈদসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন রাসেল। আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে। সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আবদুল হাকিম চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে চক্রের মূল হোতা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মো. হাসান আলীসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ

মামলার অভিযোগ ও সিআইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ ঢাকার নয়াপল্টনের একটি অফিসে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি হয়। ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বৈধ ইতালিয়ান স্পন্সর ভিসা, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড ও চাকরি দেওয়ার কথা থাকলেও প্রসেসিং, ভিসা ফি, ম্যানপাওয়ার ও টিকিটের খরচ দেখিয়ে ধাপে ধাপে ১৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর ইতালি পৌঁছানোর পর রাসেলকে নেপোলির পালমা ক্যাম্পানিয়ায় একটি কক্ষে এক মাস আটকে রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আরও চার লাখ টাকা নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল তিনি পুনরায় ইতালি যান। সেখানেও তাঁকে বন্দি রেখে প্রাণনাশের হুমকি এবং অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আসামিরা হলেন হাসান আলী, তাঁর বেয়াই মো. সাঈদ, ভাই মো. হোসেন খান ও মো. জাবেদ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললেও তাঁদের কেউ গ্রেপ্তার হননি।

সিআইডির কর্মকর্তা মো. আবদুল হাকিম বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে; পরবর্তী ব্যবস্থা আদালত নেবেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তফা কামাল বলেন, সাত মাস ধরে নিজস্ব বিচারক না থাকায় প্রতিবেদন সত্যতা পাওয়ার পরও এ ধরনের ১০০ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার হচ্ছে না। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে আদালতের আদেশের অপেক্ষা চলছে।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box