
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস): পড়ন্ত বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন শরীফুল ইসলাম। প্রায় ২০ বছর ধরে মিরপুরে বসবাস করলেও এমন মুহূর্ত তার জীবনে এটাই প্রথম। তিনি বলেন, এত বছরে কখনোই দুই সন্তানের হাত ধরে এই পথে হাঁটতে পারেননি; এখন পারছেন—এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
শরীফুল ইসলামের মতো মিরপুরের হাজারো মানুষ এখন দখলমুক্ত ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও বয়স্ক মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে হাঁটছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার করছেন। গোলচত্বরের ফুটওভার ব্রিজের নিচে অবৈধ দখলমুক্ত জায়গায় গাছ লাগিয়ে নান্দনিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও হোপ স্কুল রোডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে অবৈধ ফুটপাত মার্কেট গড়ে উঠেছিল। দোকানপাট ও ভিড়ের কারণে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে নিয়মিত দুর্ভোগ হতো। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ডিএনসিসি ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর মিরপুর-১০ ও হোপ স্কুলের সামনের ফুটপাত এখন ফাঁকা। অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও সহযোগিতা করেন।
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বাসসকে বলেন, এই উদ্যোগ মিরপুরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; উত্তর সিটির প্রতিটি এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট সরানো হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ আবার দোকান বসালে জরিমানার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, হকারদের জীবিকার সুযোগ থাকবে, তবে নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা করতে হবে। মানুষের চলাচলের পথ দখলে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
ট্রাফিক সার্জেন্ট আব্দুল আজিজ বলেন, আগে ফুটপাত দখল থাকায় মানুষ রাস্তায় হাঁটত এবং যানজট হতো। এখন রাস্তা অনেক ফাঁকা, ফুটপাতে মানুষ হাঁটছে এবং দায়িত্ব পালনে চাপ কমেছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, চালক ও পথচারীরা ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, মিরপুর-১০ নম্বরের মতো নগরীর অন্য ফুটপাতগুলোও পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য থাকবে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন