শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম এলএ শাখায় ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ, লোকমানের ‘আমি একা খাইনি’ দাবি

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় ক্ষতিপূরণের চেক পেতে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জারিকারক লোকমান চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি একা অর্থ নেননি।
চট্টগ্রাম এলএ শাখায় ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ, লোকমানের ‘আমি একা খাইনি’ দাবি

অনলাইন ডেস্ক: সরকারি প্রকল্পের জন্য বাপ-দাদার ভিটেমাটি কিংবা শেষ সম্বলটুকু ছেড়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের টাকা সরকারি তহবিল থেকে স্বসম্মানে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় সেই টাকা পেতে ভূমির মালিকদের ১৫ শতাংশ ‘কমিশন’ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে ফাইল ও ক্ষতিপূরণের চেক আটকে রাখা হয়। এমনকি ভূমির মালিকদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তোলার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়।

চট্টগ্রাম এলএ শাখার জারিকারক লোকমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভূমির মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। পটিয়া উপজেলার গৌরালা, নাইখান ও জঙ্গলখাইন মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী রক্ষা ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় তিনি ৮ ধারার নোটিশ দেওয়ার আড়ালে ভূমির মালিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে বলতেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগে বলা হয়, পটিয়ায় এক নিকটাত্মীয়ের ঘরে তথাকথিত ‘বিকল্প কার্যালয়’ তৈরি করে সেখানে ভূমির মালিকদের ডেকে ক্ষতিপূরণের চেক দ্রুত দেওয়ার বিনিময়ে মোট বরাদ্দের ১৫ শতাংশ নগদ কমিশন দাবি করা হতো। এতে রাজি না হলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখার পরোক্ষ হুমকি দেওয়া হতো।

মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে লোকমান চৌধুরী অর্থ নেওয়ার বিষয় অস্বীকার না করে দাবি করেন, তিনি একা টাকা নেননি। তাঁর ভাষ্য, ঊর্ধ্বতন মহলকে ১০ শতাংশ দিতে হয় এবং তিনি নিজে সামান্য অংশ পান। তিনি আরও বলেন, ভূমির মালিকদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগের পর মূল কাজ সামলান এলএ শাখার সার্ভেয়ারদের একটি সিন্ডিকেট। তাঁদের মাধ্যমে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

লোকমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ ধারার নোটিশ সহজে পাইয়ে দেওয়ার নামে দপ্তরের নাজিরকে ‘ম্যানেজ’ করতেও অর্থ লেনদেন হয়। তবে এলএ শাখার নাজির মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অবৈধ অর্থ লেনদেন বা দুর্নীতির সঙ্গে তিনি কিংবা তাঁর দপ্তর যুক্ত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমির সীমানা নির্ধারণ, সরেজমিন তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ের নামে তাঁদের চাপের মধ্যে রাখা হয়। সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা লোকমানের বক্তব্যের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার, কথিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box