শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

পোস্টাল ভোটিংয়ের ‘বাংলাদেশ মডেল’ গ্রহণে আগ্রহী নেপাল-শ্রীলঙ্কা

বাংলাদেশে তৈরি প্রযুক্তিভিত্তিক পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা গ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।
পোস্টাল ভোটিংয়ের ‘বাংলাদেশ মডেল’ গ্রহণে আগ্রহী নেপাল-শ্রীলঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ভোটিংয়ের আওতায় আনতে বাংলাদেশে তৈরি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশে তৈরি প্রযুক্তিভিত্তিক ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম’ ব্যবহার করে পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নেপাল ও শ্রীলঙ্কা এ প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, নেপালের প্রতিনিধিদল স্বউদ্যোগে বাংলাদেশে এসে এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফরকালেও দেশটির আগ্রহের কথা তিনি উল্লেখ করেন।

নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. রাজিব সুব্বা বলেন, উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মডেলটি সফল। নেপালের আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থার বিষয়ে অভিজ্ঞতা নিতে নেপাল বাংলাদেশের মডেল গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের মডেল হুবহু গ্রহণ করা হবে কি না, তা গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডাকযোগে কাগজপত্র আদান-প্রদানে বিলম্ব, কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর সময়ের অনিশ্চয়তা ও সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বিবেচনায় রয়েছে।

নেপালের প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, পরবর্তী দেড় বছরের মধ্যে দেশটির যেকোনো একটি প্রাদেশিক নির্বাচনে পোস্টাল ভোটিং চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের তৃতীয় দফা আলোচনা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নেপাল নির্বাচন কমিশনের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার ও ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোস্টাল ভোটিংয়ের কারিগরি ও পরিচালনাগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছে।

ইসির তথ্যানুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন অনুমোদিত ভোটারের মধ্যে ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন ভোট দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ভোট। এর মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box