শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ববিতে অনুমোদনহীন দোকান নির্মাণ, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদন ছাড়াই দুটি দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এস্টেট শাখা বিষয়টি জানিয়ে রেজিস্ট্রারকে লিখিত অভিযোগ করেছে।
ববিতে অনুমোদনহীন দোকান নির্মাণ, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নিয়মের তোয়াক্কা না করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রক্টরের প্রশ্রয়ে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা রেজিস্ট্রারকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান দোকান নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘হতাশা চত্বর’ সংলগ্ন তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রবেশপথের পাশে বাঁশ দিয়ে একটি বড় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। টিএসসির সামনেও আরেকটি দোকান নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে।

প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগের বিরুদ্ধে এসব দোকান নির্মাণে প্রশ্রয় ও অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রক্টরের দাবি, দোকানটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রের ভাষ্য, আবাসিক হলকেন্দ্রিক স্থান ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অন্য কোথাও বাণিজ্যিক দোকান বসানোর নিয়ম নেই। প্রশাসন বা এস্টেট শাখার লিখিত অনুমতি ছাড়াই দোকান দুটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রক্টরিয়াল বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার প্রক্টর অফিসের নেই বলে জানা গেছে।

এস্টেট শাখার লিখিত অভিযোগ

দোকান নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরে উদ্বেগ জানিয়েছে এস্টেট শাখা ও হল প্রশাসন। হলের প্রবেশপথে দোকান নির্মাণ করায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা এস্টেট শাখাকে জানান তাপসী রাবেয়া বসরী হলের সেকশন অফিসার সিনথিয়া শারমিন।

এস্টেট শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সাইদুজ্জামান জানান, শাখাটি কোনো অনুমতি দেয়নি। তিনি বলেন, হলের রাস্তা ও টিএসসির সামনে দুটি দোকান দেখতে পেয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

মো. মিজানুর রহমান দাবি করেন, দোকানটি প্রক্টরের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে। তবে প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ ছাত্রদল নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দোকানটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হচ্ছে এবং এস্টেট শাখা বিষয়টি জানে। এস্টেট শাখা তা অস্বীকার করেছে জানানো হলে তিনি রেজিস্ট্রার শাখার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো অনুমতি দেননি এবং বিষয়টি জানেন না। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো কাজ করতে হলে নিয়ম মেনে করতে হবে।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box