শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর

সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও আয় বৃদ্ধির সংযোগ গড়ে তুলে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর

অনলাইন ডেস্ক: বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক আঞ্চলিক সম্মেলনে তিনি এ অভিমত তুলে ধরেন। ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক সম্মেলনটির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া।

ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

করোনা মহামারি ও আগের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বেড়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার উপস্থাপনায় উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির সমন্বয়হীনতার কারণে যোগ্য অনেকে বাদ পড়েন এবং অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পান বলে তিনি জানান। এ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

তার মতে, সামাজিক সুরক্ষাকে শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা দরকার। এতে দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বাড়বে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিবারগুলোর আয় ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।

সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিতুমীর। তার উপস্থাপনায় উদ্ধৃত প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৬১ লাখে পৌঁছাতে পারে এবং দেশের দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড কর্মসূচির লক্ষ্য হিসেবে যোগ্য কৃষকদের নগদ প্রণোদনা দেওয়া এবং কৃষিসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর কথা জানান তিনি। উপস্থাপনায় উদ্ধৃত প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ কর্মসূচির ফলে কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃত জিডিপি ০ দশমিক ৭ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের প্রস্তাবিত কর্মসূচি এবং পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ছয়টি প্রস্তাবও দেন তিনি।

সম্মেলনে এশিয়ায় আয় ও সম্পদ বৈষম্য, সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও ডিজিটাল বৈষম্য নিয়েও আলোচনা হয়। অক্সফামের উপস্থাপিত নীতিপত্রে বলা হয়, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতে জাতীয় আয়ের ৬০ থেকে ৭৭ শতাংশ কেন্দ্রীভূত। বিপরীতে সবচেয়ে দরিদ্র অর্ধেক মানুষের আয় জাতীয় আয়ের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box