
অনলাইন ডেস্ক: নেত্রকোণায় চার এতিম নাতি-নাতনিসহ ৮৫ বছর বয়সী রুস্তম আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে নেত্রকোণা সদর উপজেলা প্রশাসন। রোববার সন্ধ্যায় আমতলা ইউনিয়নের শিবপ্রসাদপুর গ্রামে রুস্তম আলীর বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিজা খাতুন।
রুস্তম আলীর ছেলে কাঠমিস্ত্রি সুজন মিয়া স্ট্রোকে মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী শিরিন আক্তার এবং শিশুদের দাদিও মারা যান। এতে জিহাদ, সাথী, সিথী ও ইতির দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে ৮৫ বছর বয়সী দাদার ওপর।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জিহাদ শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। সাথী ১৩ বছর বয়সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। মেজো মেয়ে সিথী ও ছোট ইতি বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর নানার বাড়িতে রয়েছে।
বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে রুস্তম আলী এখন কাজ করতে পারেন না। আগে বাঁশ-বেতের সামগ্রী তৈরি করে সংসার চালালেও বর্তমানে কোনো নিয়মিত আয় নেই। চার শিশুর খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় মেটাতে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারটিকে সহায়তা করে আসছিলেন।
শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী আশরাফুল আলম সানি পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে রুস্তম আলীর বাড়িতে যান এবং উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। এরপর ইউএনও মনিজা খাতুন পরিবারটির কাছে গিয়ে সহায়তা তুলে দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পুনর্বাসনের প্রস্তাব
ইউএনও মনিজা খাতুন বলেন, রুস্তম আলী বয়স্ক ভাতা এবং তার প্রতিবন্ধী নাতি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। মেয়েশিশুদের সরকারি শিশু পরিবারে পুনর্বাসনের সুযোগ রয়েছে; পরিবার সম্মত হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রুস্তম আলীর জন্য ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড বা অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় পরিবারটিকে রাখার চেষ্টা করা হবে।
প্রশাসনের উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশ্বাস পাওয়ায় রুস্তম আলী প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন