শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুর গৃহায়নের প্রকৌশলী সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে প্রকল্পের মালামাল বিক্রি, সরকারি জমি দখল ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
মিরপুর গৃহায়নের প্রকৌশলী সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে কর্মরত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি সম্পত্তি, প্রকল্পের মালামাল, ফাইল নিষ্পত্তি ও গ্রাহকসেবাকে কেন্দ্র করে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছেন তিনি।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রকল্পের মালামাল বিক্রির অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঢাকা ডিভিশন-১-এর অধীনে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ৯ নম্বর সেকশনে ‘স্বপ্ননগর-২য় পর্ব’ প্রকল্পে ১৫টি ১৪ তলা ভবনে ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পে ব্যবহৃত অকেজো ও অব্যবহৃত মালামালের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা হলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বানের আগেই সেগুলো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি গোপন রাখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাত্র ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে টেন্ডারের অনুমোদন নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই মালামাল বিক্রি সম্পন্ন হয় এবং বিক্রির অর্থের বড় অংশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়।

দখল করা জমিতে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, মিরপুরের ১০ ও ১১ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল এবং মণিপুর স্কুলের পশ্চিম পাশে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জমিতে অবৈধ দখলদারদের মাধ্যমে দোকান ও আবাসিক কক্ষ নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি আবাসিক কক্ষ থেকে মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং প্রতিটি দোকান থেকে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। এতে প্রতি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় হয়, যার একটি অংশ সাখাওয়াত হোসেন পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ফাইল পরিচালনা, গ্রাহক হয়রানি এবং বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাখাওয়াত হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁদের নামে বিপুল অর্থ জমা থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ সূত্রে বলা হয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box