শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর মার্কেট ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিশ্চিত এবং রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

অনলাইন ডেস্ক: পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মার্কেট ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা আইনগত বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্যও জরুরি। আশপাশের মার্কেট ও ভবনে যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, চকবাজারের রাস্তা দখলমুক্ত থাকলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত। তাই রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান না বসানোর পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি। জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন প্রশাসক।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাগ তৈরির একটি কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারায় এসি মসজিদের পাশে ‘মনজুর খান প্লাজা’র ছয়তলায় একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পরে আগুন পাশের আরেকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়লে মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ড ও পানির স্বল্পতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এলাকার অবকাঠামোগত সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। তিনি জানান, পুরান ঢাকার পুকুর সংরক্ষণ ও সংস্কারের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারকাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

কেমিক্যালজনিত অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কেমিক্যালের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কেমিক্যাল-সংশ্লিষ্ট বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড আগের তুলনায় কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান প্রশাসক। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box