
অনলাইন ডেস্ক: বাজার মূলধন বাড়ানো এবং বড় কর্পোরেট ও বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে যুক্ত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়াই সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ মঙ্গলবার কমিশন সভায় অনুমোদনের পর বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, কমিশন সভায় অনুমোদন সম্পন্ন হলে বিধিমালাটি গেজেট প্রকাশের জন্য পাঠানো হবে।
নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করবে না; শেয়ার বিক্রির অর্থ পাবেন সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডাররা।
গত ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। এর আগে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া ১ সেপ্টেম্বর জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বার্ষিক লেনদেন বা মোট সম্পদ এক হাজার কোটি টাকার বেশি এমন কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সরকারের অন্তত ৫১ শতাংশ মালিকানা বা কোনো কোম্পানিতে সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কমপক্ষে ১০ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকলেও যোগ্যতা বিবেচিত হতে পারে। বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা অন্তত ৫১ শতাংশ এমন কোম্পানিও এ সুযোগ পেতে পারে।
বিটিআরসি-লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা হতে হবে। অন্তত তিন বছর কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ সুযোগ পেতে পারে।
কোম্পানিকে অন্তত তিন বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, আগের দুই অর্থবছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা এবং সর্বশেষ অর্থবছরে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহ দেখাতে হবে। সঞ্চিত লোকসান থাকা যাবে না। তবে স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশে কমিশন মুনাফার শর্ত শিথিল করতে পারবে।
ঋণখেলাপি কোম্পানি, উদ্যোক্তা বা পরিচালকের ক্ষেত্রে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ থাকবে না। আর্থিক বিবরণী আইএফআরএস অনুযায়ী এবং নিরীক্ষা আইএসএ অনুসারে সম্পন্ন হতে হবে।
তালিকাভুক্তির পর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিত মালিকানা কমপক্ষে ৩০ শতাংশ রাখতে হবে। প্রথম ৩০ কার্যদিবসে সরকারি বা সরকারি অংশীদারত্ব রয়েছে এমন এবং বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকে অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। অন্য যোগ্য কোম্পানির ক্ষেত্রে এ হার হবে অন্তত ২০ শতাংশ।
প্রথম ৩০ মিনিট শুধু ক্রয়াদেশ দেওয়া যাবে। প্রথম দিনে বিক্রির জন্য নির্ধারিত শেয়ারের অন্তত ৫০ শতাংশ বিক্রি করতে হবে এবং বাকি শেয়ার পরবর্তী ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিক্রি করতে হবে। ফ্লোর প্রাইস রেফারেন্স মূল্যের চেয়ে কমপক্ষে ২০ শতাংশ নিচে নির্ধারণ করা হবে।
প্রথম দুই কার্যদিবসে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। তৃতীয় কার্যদিবসে লেনদেন বন্ধ রেখে শেয়ার বিতরণ ও নিষ্পত্তি করা হবে; চতুর্থ কার্যদিবস থেকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে। প্রথম পাঁচ কার্যদিবসে একক ক্রয় বা বিক্রয় আদেশে সর্বোচ্চ এক হাজার শেয়ার দেওয়া যাবে।
সরাসরি তালিকাভুক্তির আবেদন সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে করতে হবে এবং এক লাখ টাকা ফি দিতে হবে। স্টক এক্সচেঞ্জ আর্থিক, আইনগত, কারিগরি ও পরিবেশগত বিষয় যাচাই করবে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে ৩০ দিনের মধ্যে বিএসইসির কাছে আপিল করা যাবে।
অনুমোদনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানিকে তথ্যপত্র প্রকাশ করতে হবে। এতে আর্থিক অবস্থা, ব্যবসা, ঝুঁকি, শেয়ার মালিকানা, ঋণ, মামলা, কর্পোরেট সুশাসন ও শেয়ারের মূল্যায়নসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
বিধিমালাটি কার্যকর হলে বড় যোগ্য কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে প্রবেশের বিকল্প পথ তৈরি হবে। তবে এর সুফল নির্ভর করবে যোগ্যতা যাচাই, স্বচ্ছ মূল্যায়ন, পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগের ওপর।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত