শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারে ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উদ্ঘাটন করেছে এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারে ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন

অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

এনবিআর জানায়, কাগজে-কলমে রপ্তানি দেখানো হলেও সরেজমিন তদন্তে সংশ্লিষ্ট কারখানায় কার্যকর উৎপাদন ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। উৎপাদনের জন্য স্থাপিত মেশিনপত্রও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের একটি প্রিভেনটিভ টিম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বি/২৪০, মিজমিজি দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত ইউএজিএম বিডি লিমিটেডে অভিযান চালায়। প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর আওতাধীন একটি প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় পিভিসি ফ্লেক্স, পিভিসি ফিল্ম, পিইটি ফিল্ম, আর্টিফিশিয়াল লেদার, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও কালার বোর্ডসহ বিভিন্ন কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করত। এসব কাঁচামাল দিয়ে পণ্য উৎপাদন করে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি দেখানো হতো বলে এনবিআর জানিয়েছে।

অভিযানের সময় ঘোষিত উৎপাদন তথ্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব মিলিয়ে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনায় ঘোষিত উৎপাদনের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার অত্যন্ত কম দেখা গেছে। কারখানায় বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ বা গ্যাসচালিত কোনো উৎপাদন ব্যবস্থার অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) নিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি দেখালেও বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করেছে।

এনবিআর জানায়, আমদানি তথ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব, ইউপি ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণের পর ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্ক ফাঁকি ও অনিয়ম শনাক্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা এবং কারখানার বাস্তব কার্যক্রম বিশ্লেষণের মাধ্যমে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box